
ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, আইনজীবী ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন দেশের আইন অঙ্গন ও রাজনীতিতে একজন সুপরিচিত এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিকবার নির্বাচিত সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৪ নভেম্বর ভোলা সদর উপজেলায়। তিনি ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, এক কন্যা ও স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত সহকর্মী শ ম রেজাউল করিম ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। এক শোকবার্তায় বলা হয়, “সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই মানুষটি ছিলেন অভিভাবকসুলভ একজন ব্যক্তিত্ব। তার মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।”
বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজ ও রাজনীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও সংবিধান প্রণয়নে মৌলিক অবদান রাখেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রজন্মের আইনজীবী-রাজনীতিবিদদের অভিজ্ঞতা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।