
দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফিলিপাইন ও ফ্রান্স একটি সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাহিনী একে অপরের ভূখণ্ডে যৌথ সামরিক মহড়া চালাতে পারবে।
বার্তা সংস্থা Reuters জানিয়েছে, ২৬ মার্চ প্যারিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Gilberto Teodoro এবং ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী Catherine Vautrin এই ‘ভিজিটিং ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির ফলে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী একে অপরের ভূখণ্ডে প্রশিক্ষণ ও যৌথ সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করবে এবং যৌথ কার্যক্রমে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে এবং ‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা’ বজায় রাখার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ এবং সংকটকালে সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়।
ফ্রান্স ছাড়াও ফিলিপাইনের যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে একই ধরনের সামরিক চুক্তি রয়েছে। এই নতুন চুক্তি দেশটির প্রতিরক্ষা জোট সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন আগে ফিলিপাইন সেনাবাহিনী অভিযোগ করে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলের থিতু দ্বীপের কাছে একটি চীনা ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ফ্রিগেট ফিলিপাইনের নৌযানের বিরুদ্ধে ‘অপেশাদার ও ঝুঁকিপূর্ণ’ আচরণ করেছে।
দক্ষিণ চীন সাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ, যেখানে প্রতিবছর প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য পরিবাহিত হয়। চীন প্রায় পুরো জলসীমার ওপর দাবি করে আসছে, যদিও ২০১৬ সালের একটি আন্তর্জাতিক রায়ে এ দাবিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়—যা বেইজিং এখনো স্বীকার করে না।
সাম্প্রতিক এই চুক্তিকে বিশ্লেষকরা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।