
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে নীলফামারী-৩আসনের নির্বাচনের মাঠ। জলঢাকা উপজেলাকে নিয়ে গঠিত এই আসন অধ্যুষিত এলাকা ও নতুন ভোটারদের সমর্থন পেতে জোর প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। এই আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীলফামারী জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে নীলফামারী-৩ আসনেই সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমিক ভোটার এবং তরুণ প্রজন্মের ভোট এবার ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকে ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ আলী পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক।
জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রোহান চৌধুরী পেয়েছেন লাঙ্গল প্রতীক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।
২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তরুণ ভোটারদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের, রাজনৈতিক সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুশাসনের প্রশ্নে তারা আগের চাইতে অনেকাংশে সোচ্চার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে উঠান বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচন শুধু দল বা প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনাই তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।
জলঢাকা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক সফল মেয়র বলেন, আমাদের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ আলী প্রচারণা জোরদার প্রচারণা চলছে এবং আমাদের শ্রমিকরা অত্যন্ত সচেতন। রাজনৈতিক দল হিসাবে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসাবে তারা বিএনপিকেই বেছে নিবে ধানের শীষকেই বেছে নিবে— এ ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, নীলফামারী–৩আসনের সবকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ আলী বলেন, আমার ভালোবাসার জায়গা। এই এলাকার মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও নীলফামারী-৩ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে আপনাদের সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করছি।
তিনি বলেন, নীলফামারী -৩ আসনের নির্বাচন এবার শুধু প্রতীকের লড়াই নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নের প্রশ্নে জনগণের রায় নির্ধারিত হবে বলে আশা করছি।
ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ আলী বলেন নির্বাচনী এলাকার বিষয়ে তিনি বলেন, -শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আমি নির্বাচনের মাঠে প্রচারণায় নেমেছি।