
পটুয়াখালীর দুমকিতে আকস্মিক পায়রা নদীর ভাঙনে চার পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হঠাৎ এই ভাঙনে নদীপাড়ের বাহেরচর গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার এখন তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ভাঙন ঠেকাতে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার রাতে, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে। নদীতে তলিয়ে গেছে কোব্বাত হাওলাদারের ছেলে জাকির হাওলাদার (৫০), দলিল উদ্দিন ফকিরের ছেলে কুদ্দুস (৫৫), খালেক হাওলাদারের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৭০) এবং মৃত নজরুলের স্ত্রী লাভলী বেগমের বসতভিটা।
সরেজমিনে দেখা গেছে—ভয়াবহ ভাঙনে ঘরবাড়ি, গাছপালা এমনকি স্থানীয় কবরস্থান পর্যন্ত নদীতে বিলীন হয়েছে। সহায়-সম্বল হারানো পরিবারগুলো এখন পাউবো ভেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ৫০ বছরে পায়রা নদীর ভাঙনে শতাধিক পরিবার জমি ও ঘর হারিয়েছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন।
আঙ্গারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিল্লুর রহমান সোহরাব হোসেন বলেন, “ভাঙনে বাহেরচর গ্রাম প্রায় নিশ্চিহ্ন। অবশিষ্ট অংশও ভাঙছে। ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, “অদূরে একটি মেন্টেন্যান্স প্রকল্প চলছে, তবে সেটি দিয়ে পুরো ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। এলাকাটির জন্য সমীক্ষা অনুমোদন হয়েছে, দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা—দ্রুত নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাহেরচর গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।