1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
জিপিএ-৫ না পেলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্বপ্ন দেখার পথ খোলা ভোলায় কান্দি পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র, একই জমিতে ধান-সবজি চাষে লাভবান কৃষক আমতলীতে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, জনপ্রতি ৩০ টাকা আদায়ের দাবি এইচএসসির ফলাফলে বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে পিছিয়ে ঝালকাঠি, পাসের হার ৩৭.০৯ শতাংশ ভোলায় এইচএসসিতে পাসের হার ৩৯.৫৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ বেড়ে ৭৯ ঝালকাঠিতে ৪৭ হাজার টাকার জাল নোটসহ নারী আটক, স্বামী পলাতক ভোলায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতায় জিজেইউএসের সভা যুবদল নেতা আলামিন হত্যা: ১১ বছর পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার কাজের মান নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, কলেজের সড়কের ঢালাই বন্ধ নজরুল বর্ষের বিভাগীয় একক অভিনয়ে দ্বিতীয় ভোলার সমৃদ্ধ পাল স্নিগ্ধ

জিপিএ-৫ না পেলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্বপ্ন দেখার পথ খোলা

মো. সামিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কারও ঘরে আনন্দ, কারও চোখে জল। কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর মনে জন্ম নিয়েছে হতাশা, কেউ কেউ ভাবছে—ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন কি তবে শেষ? বাস্তবতা বলছে, না। সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জনই উচ্চশিক্ষার একমাত্র শর্ত নয়; ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, যোগ্যতা ও পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির নিয়মও নির্ধারণ করে পরবর্তী পথ।

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ৭০২ জন শিক্ষার্থী। আর সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার ৮৪। গত বছরের তুলনায় এবার সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রতিযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে জিপিএ-৫ না পাওয়াকে ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়ার সমার্থক ভাবার কারণ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত কলেজ ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার। বিপরীতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সামগ্রিক আসনসংখ্যা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষায় সুযোগের পরিসর বড় হলেও সব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রতিযোগিতা সমান নয়।

বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস, সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ৬১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে মোট আসন ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি ভর্তির আসন ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। ফলে দেশের সব উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনসংখ্যার সঙ্গে জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তির সুযোগকে এক করে দেখার অবকাশ নেই।

এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। জিপিএ-৫ না পেলেও কোনো শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করলে এবং পরীক্ষায় ভালো করলে ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন। তবে মেডিকেল, ডেন্টাল, প্রকৌশল ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের শর্ত আলাদা। কোথাও এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ, কোথাও নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রাপ্ত গ্রেড এবং কোথাও অন্যান্য শর্তও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

ফলাফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী নিজের প্রাপ্ত নম্বরকে সহপাঠী কিংবা বন্ধুদের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করে হতাশ হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিপিএ-৫ পাওয়ার উচ্ছ্বাসও কখনো কখনো সেই হতাশা বাড়িয়ে দেয়। অথচ একটি পরীক্ষার ফলাফল কোনো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক মেধা, পরিশ্রম কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পূর্ণাঙ্গ মাপকাঠি নয়। প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার কষ্ট বাস্তব, কিন্তু সেই কষ্টের কাছে নিজের পরবর্তী সম্ভাবনাগুলোকে হার মানতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এখন সবচেয়ে জরুরি হলো সময়কে কাজে লাগানো, নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং লক্ষ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া। কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ রয়েছে, কোন বিষয়ে পড়তে আগ্রহ, ভর্তি পরীক্ষায় কোন ধরনের প্রশ্ন আসে এবং হাতে কতটা সময় আছে—এসব বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য স্বীকৃত উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে, জিপিএ-৫ একটি অর্জন, কিন্তু সেটিই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়। কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় যে পথটি কঠিন মনে হচ্ছে, সেই পথেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং হাল না ছাড়ার মানসিকতা।

ফলাফল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, পুরো গল্পের নয়। জিপিএ-৫ না পাওয়ার আফসোসে থেমে না থেকে পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত হওয়াই এখন শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় কাজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট