
পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি কলেজের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষা কেন্দ্র হঠাৎ জেলা শহরের আবদুল করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী। আগামী ৩০ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা থাকা পরীক্ষার মাত্র ১২ দিন আগে এই নোটিশে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭ কিলোমিটার সড়কপথে যাতায়াত, দুর্ঘটনার আশঙ্কা ও প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বাউফল সরকারি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন করে ৩ কিলোমিটার দূরের কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ ৯ বছর সেখানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ‘কেন্দ্র ফি’ অপ্রতুল উল্লেখ করে কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করে। যার প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শাখা কেন্দ্রটি পটুয়াখালী সদরের আবদুল করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশই বাউফল ও দশমিনা উপজেলার বাসিন্দা। জেলা শহরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে সকাল ৯টার পরীক্ষার জন্য ভোরেই রওনা দিতে হবে। বিকাল ৫টায় পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার আগেই নেমে আসবে রাতের অন্ধকার। অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি মানসিক চাপ বাড়াবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে দুর্ঘটনার শঙ্কাও রয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং সড়কে মানববন্ধন করেছেন।
ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র ফি বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হয়। সেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দিতে হয়, যা সবসময় সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রশাসনও ভর্তুকি বিল প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করায় অনলাইনে কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।”
বউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার বলেন, “কালাইয়া কলেজ কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদনের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। পরীক্ষার ১২ দিন আগে জানতে পারি কেন্দ্র পটুয়াখালী সদরে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের সমস্যার বিষয়টি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল।”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ এনামুল করিম বলেন, “ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশে কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। সড়কের ঝুঁকি বা যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। স্নাতক শেষ বর্ষের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেন্দ্র পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে পরবর্তীতে সকলের জন্য সুবিধাজনক প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে।”
বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোর পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণে আঞ্চলিক সুবিধা, অবকাঠামো ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। তবে উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপত্তা ও সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অধিকতর গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন বলে শিক্ষাবিদরা মনে করেন।