
হাঁস পালন করে সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন ভোলার উত্তর জয়নগরের উদ্যোক্তা মোছা. পারুল বেগম।পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার (জিজেইউএস) সহায়তায় খাকি ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস পালনের মাধ্যমে ডিম উৎপাদন করে তিনি বর্তমানে নিয়মিত আয় করছেন।
জিজেইউএস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে পিকেএসএফের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এগ্রো-মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের আওতায় উদ্যোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অধিক ডিম উৎপাদনকারী খাকি ক্যাম্পবেল জাত পালন প্রদর্শনী’ কর্মসূচির আওতায় উত্তর জয়নগর শাখার মাধ্যমে পারুল বেগমকে ১০০টি হাঁসের বাচ্চাসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হয়।
সহায়তা পাওয়ার পর পারুল বেগমের খামারে হাঁসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১০টিতে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯০টি হাঁস নিয়মিত ডিম দিচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৯০টি ডিম উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিটি ডিম ১৮ টাকা দরে বিক্রি করে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬২০ টাকা আয় করছেন তিনি।
পারুল বেগম জানান, হাঁসের খাবার বাবদ মাসে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় হয়। অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে খামার থেকে তিনি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা মুনাফা করছেন। আয় বাড়ায় খামারটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও করেছেন তিনি।
ভবিষ্যতে আরও ২০০টি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে সেগুলো ডিম উৎপাদনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে পারুল বেগমের। এতে তার খামারের উৎপাদন ও আয় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
সহযোগিতা পাওয়ার জন্য জিজেইউএস ও পিকেএসএফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পারুল বেগম বলেন, কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ায় হাঁস পালনের কাজ আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারছেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে এ ধরনের সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।