
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলার নৌপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত নিরাপদ নৌযান না থাকায় হাজারো যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, গাদাগাদি ভিড় ও তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে ছেড়ে আসা একের পর এক লঞ্চ, সি-ট্রাক ও ছোট ট্রলার ভোলার ইলিশা ঘাটে পৌঁছাতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে আটটি লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ইলিশা ঘাটে ভিড়েছে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে পাঁচটি ছোট ট্রলারে কয়েক হাজার যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোলায় আসেন।
ঘাটে আসা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লঞ্চ সংকট ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে ছোট ট্রলারে যাত্রা করছেন। তবে এসব ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় পুরো পথজুড়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের।
চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী মো. রাকিব বলেন, ভোরে মজু চৌধুরীর ঘাটে পৌঁছেও দীর্ঘ সময় কোনো লঞ্চ পাননি। পরে বাধ্য হয়ে ট্রলারে উঠতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৮০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। ছোট ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় নড়াচড়ারও সুযোগ ছিল না।
চরফ্যাসনগামী যাত্রী মো. ইকরাম জানান, তিনি প্রথমে একটি লঞ্চে উঠেছিলেন। কিন্তু মাঝনদীতে ডুবোচরে আটকে গেলে পরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ট্রলারে করে ইলিশা ঘাটে আসতে হয়। নদীর ঢেউ ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আতঙ্ক নিয়েই পুরো পথ পাড়ি দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরেক যাত্রী সফিক সিকদার বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে দ্রুত বাড়ি ফিরতেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে উঠেছেন। তবে মাঝনদীতে ঢেউয়ের কবলে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই নিষিদ্ধ ছোট ট্রলারে যাত্রী পারাপার চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ট্রলারচালকদের দাবি, লঞ্চ সংকট ও যাত্রীদের ভোগান্তির কারণেই তারা যাত্রী পরিবহন করছেন। অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনকারী এমবি আফনান খন্দকার-২ ট্রলারের চালক মো. শাজাহান বলেন, মেঘনায় ডুবোচরের কারণে কিছু লঞ্চ আটকে পড়েছে। এতে যাত্রীরা বিপাকে পড়ায় তাদের পারাপারে সহায়তা করা হচ্ছে। বর্তমানে নদী শান্ত থাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী রিয়াজ হোসেন ও ইসমাইল হোসেনসহ অনেকেই জানান, প্রতিটি লঞ্চেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। তারপরও ঈদের আগে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে ভোগান্তি মেনেই যাত্রা করছেন তারা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক নির্মল কান্তি দে বলেন, মেঘনায় নাব্য সংকটের কারণে মাঝনদীতে ডুবোচরে কয়েকটি লঞ্চ আটকে পড়েছে। এতে যাত্রীদের একটি অংশ ট্রলারে পারাপার হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত নৌযান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।