
পটুয়াখালীর বড়বিঘাই ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া এলাকায় লোকনাথ জুয়েলার্স নামের একটি স্বর্ণের দোকানে ছাদ কেটে অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনায় মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চোরাইকৃত ২ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার ও ৮২ ভরি রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা দোকানের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দোকান থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ১৫০ ভরি রুপার অলংকার এবং নগদ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর দোকানের মালিক সঞ্জয় কর্মকার পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের মাধ্যমে মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
পরে অভিযানে গত ১ মে পটুয়াখালী এলাকা থেকে মো. সোহেল হাওলাদার (৩২)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ১ ভরি ২ আনা ৪ রতি স্বর্ণ এবং ৫৪ ভরি ১৫ আনা রুপার অলংকার।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং জানায়, চোরাইকৃত বাকি মালামাল ঢাকার কাফরুল এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. আজাহার আলী ওরফে সোহেলের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার কাফরুল থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে আরও ১ ভরি ২ আনা স্বর্ণ ও ২৭ ভরি রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. সোহেল হাওলাদার (জেলা পটুয়াখালী) এবং মো. আজাহার আলী ওরফে সোহেল (থানা ধামরাই, জেলা ঢাকা)।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণের আংটি, কানের রিং, নাকফুল, গলানো স্বর্ণ, রুপার নুপুর, চেইন, আংটি এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি দা ও একটি হাত করাত।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
বাংলাদেশে স্বর্ণের দোকান ও মূল্যবান পণ্যের দোকানগুলোতে চুরির ঘটনা নতুন নয়। ছাদ কাটা, তালা ভাঙা বা প্রযুক্তিগত কৌশলে চুরির মতো অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে এ ধরনের মামলা তদন্তে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দোকান মালিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে চুরির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।