
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে বরফ উৎপাদন ও বাজারজাত করার দায়ে ফাহিম মিনি আইস প্লান্টের মালিক হারুন অর রশিদকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার ধোলাইমার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেকের নেতৃত্বে নৌ-পুলিশের সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ফাহিম মিনি আইস প্লান্টে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বরফ উৎপাদন ও মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক বলেন, “নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে মাছ সংরক্ষণে ব্যবহৃত বরফ উৎপাদন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০-এর ৩৪ ধারায় এ জরিমানা করা হয়েছে। চলমান নিষেধাজ্ঞা সফল করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সরকার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি মাছ সংরক্ষণে ব্যবহৃত বরফ উৎপাদন ও বিক্রিও নিষিদ্ধ থাকে।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু বরফ কল মালিক অবৈধ উপায়ে বরফ তৈরি ও সরবরাহ করে যাচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যকে ব্যাহত করে বলে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫৮ দিনের জেলে নিষেধাজ্ঞা মাছের প্রজনন মৌসুমে প্রয়োগ করা হয়, যাতে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বরফ উৎপাদন নিষিদ্ধ রাখা হয় যাতে অবৈধভাবে ধরা মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহন বন্ধ থাকে। মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ টেকসইভাবে রক্ষা করা সম্ভব।