
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক জেলের বাসা থেকে একটি বিষধর পদ্মগোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সাপটি সাগরপাড় এলাকা থেকে ধরে এনে বালতিতে আটকে রেখে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সাপটি উদ্ধার করে নিরাপদ বনে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটার ঝাউবনসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী এক জেলে সাপটি ধরে বাসায় নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) টিম ও বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারীরা জানান, পদ্মগোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ। এ ধরনের বন্য প্রাণী ধরে বাসায় আটকে রাখা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি এটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
উদ্ধারের পর সাপটিকে নিরাপদে সংরক্ষিত বনের মধ্যে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের মাঝে সাপ সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, “সাপকে দুধ খাওয়ানো নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সাপ স্বাভাবিকভাবে দুধ পান করে না, বরং এতে প্রাণীটির হজমতন্ত্রে সমস্যা ও ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।”
বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্য প্রাণী না ধরতে এবং কোনো প্রাণী দেখতে পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা হটলাইন নম্বরে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ অনুযায়ী সাপসহ সকল বন্যপ্রাণী ধরা, আটকে রাখা বা ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। উপকূলীয় অঞ্চলে সাপ ও মানুষের সংঘাত একটি সাধারণ ঘটনা। তবে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে অনেক সময় বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ ও প্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।