
সমুদ্রগামী মাছ ধরার নৌযানে আধুনিক যোগাযোগ ও নেভিগেশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর মহিপুরে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও জেলে নেতারা অংশ নেন।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভার আয়োজন করে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) ও সংগ্রাম।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন।
এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) শাহ আহমেদুল কবির এবং ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক (ডোমেস্টিক সেলস) হামেদ হাসান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌপরিবহন-সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় জেলে সমিতি ও জনপ্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরার সময় দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দিকনির্দেশনাসংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রতিবছর বহু জেলে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব ঝুঁকি কমাতে নৌযানে জিপিএস, ভিএইচএফ রেডিও, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস), ইকো সাউন্ডার এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন সময়ের দাবি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নৌযানের অবস্থান নির্ণয়, আবহাওয়ার তথ্য প্রাপ্তি এবং জরুরি যোগাযোগ সহজ হলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে তারা মত দেন।
আলোচনায় সমুদ্রগামী নৌযানে বাধ্যতামূলকভাবে জিপিএস ও ভিএইচএফ রেডিও স্থাপন, জেলেদের প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রযুক্তি ক্রয়ে ভর্তুকি বা আর্থিক সহায়তা এবং দুর্ঘটনা বা দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক নৌযানে আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন এবং পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত নৌযানের জন্য স্যাটেলাইট সেবা চালুর কথাও জানানো হয়। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীরা একটি সমুদ্রগামী ট্রলারে উঠে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রদক্ষিণ করবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা বাড়বে এবং দেশের মৎস্য আহরণ কার্যক্রম আরও টেকসই ও লাভজনক হবে।