ওয়াশিংটন ডিসি – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে উদ্ভূত বিভ্রান্তিমূলক ও ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস একটি ঐতিহাসিক আইন পাস করেছে। “Take It Down Act” নামে পরিচিত এই ফেডারেল আইনটি ১৯ মে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর হয়।
এই আইনটি মূলত AI বা অন্য ডিজিটাল মাধ্যমে তৈরি অননুমোদিত যৌন ইমেজ, ভিডিও বা ডিপফেইক কনটেন্ট প্রকাশকে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে।
🔒 কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তৈরি ও প্রকাশিত যৌন কনটেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে।
⚖️ সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগকৃত কনটেন্ট অপসারণের আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
🏛️ আইনটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC)।
এই আইনটি কংগ্রেসে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হয় — হাউজে ৪০৯-২ ভোটে এবং সিনেটে সর্বসম্মতভাবে। আইনটি প্রণয়নে বিশেষ অবদান রাখেন প্রথম মহিলা মেলানিয়া ট্রাম্প, যিনি হোয়াইট হাউজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের পাশে ছিলেন।
যদিও আইনটি বেশিরভাগ মহলে প্রশংসিত হয়েছে, তবুও ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন (EFF) এবং অন্যান্য ডিজিটাল অধিকার সংগঠন এই আইনটির অস্পষ্ট ভাষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, আইনটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা সেন্সরের জন্য অপব্যবহার হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী যখন AI দ্বারা তৈরি ডিপফেইক, মিথ্যা প্রচার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়ে চলেছে, তখন এই আইনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এটি যুক্তরাষ্ট্রে AI কনটেন্ট সংক্রান্ত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইন, যা ভবিষ্যতের ডিজিটাল জগতে সুরক্ষা, দায়বদ্ধতা ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।