
পটুয়াখালীতে দুই দিন ব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের বার্ষিক জন্মোৎসব পালিত হয়েছে। রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সেবা সংঘ পটুয়াখালীর আয়োজনে নতুন বাজার মদনমোহন জিউর আখড়াবাড়িতে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের সমাপনী দিনে রাত ৯টায় আলোচনা সভা ও ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সেবা সংঘ পটুয়াখালীর সভাপতি সহকারী অধ্যাপক (অব.) অশোক কুমার দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সজল দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদ পিনু এবং বাগেরহাট রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী গুরুসপবানন্দ মহারাজ। বরিশাল রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী বিজিতাত্মানন্দজী মহারাজ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় পটুয়াখালী মহানাম সেবাসংঘের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র শীল ও সনাতন ধর্মের প্রবীন ব্যক্তিত্ব নিত্যানন্দ কর্মকারসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, “আমাদের দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন্তা ও আদর্শ এবং শ্লোগান হচ্ছে ‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’।” তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা সংখ্যালঘু নয়; আমরা-আপনারা এ দেশেই জন্মগ্রহণ করেছি, আমরা সবাই বাংলাদেশেরই নাগরিক।”
আলোচনা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব-পার্বণ জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। শ্রী রামকৃষ্ণ দেব ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ মানবকল্যাণ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের বার্তা বহন করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধর্মীয় উৎসবগুলো আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।