
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় মধ্যরাতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ২৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের ইতালি বাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আরও ২৪টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তির বসতঘরে অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত চাল জেলেদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারি বরাদ্দের অংশ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ৫৮ দিনের জেলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তার জন্য সরকারিভাবে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, “জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল অবৈধভাবে মজুদ বা পাচারের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত চালের সঠিক উৎস ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের সহায়তার নামে বরাদ্দকৃত চাল কীভাবে অবৈধভাবে মজুদ করা হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫৮ দিনের জেলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তার জন্য সরকার খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে এসব সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ না হয়ে মাঝপথে আত্মসাৎ বা অবৈধ মজুদের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই উঠে আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা, ডিজিটাল মনিটরিং ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করলে এসব অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।