
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর ৩৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও চার কিশোরীর কোনো সন্ধান মেলেনি। রোববার (১০ মে) সকালে পৃথকভাবে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজে পুলিশ ও স্থানীয়রা অভিযান চালালেও এখনো তাদের কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন—সানজিদা আক্তার (১২) ও ইসমত জেরিন (১২), উভয়েই উপজেলার নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী; সানজিদা আক্তার রাইসা (১৩), একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী; এবং আয়শা আক্তার (১৫), যিনি অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে তারা নিজ নিজ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু সারাদিন পরও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিদ্যালয় ও আত্মীয়-স্বজনদের ঠিকানায় খোঁজ করেও তাদের সন্ধান না পাওয়ায় রাত ১২টার দিকে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শ্রেণি কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিল তাদের বিদ্যালয়ের তিনজন নিখোঁজ শিক্ষার্থী। বিকেলে অভিভাবকদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের কথা বলে বের হয়েছিল। সহপাঠীদের সঙ্গে আলাপ করেও তাদের কোনো তথ্য মেলেনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বাউফল থানার এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, “নিখোঁজ ছাত্রীদের সঙ্গে মোবাইলফোন না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। যোগাযোগ মাধ্যম বাস ও লঞ্চে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে তারা আর বাড়ি ফেরেনি। অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।”
বাংলাদেশে শিশু-কিশোরী নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকায় স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগে শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। নিখোঁজ হওয়ার দ্রুত সময়ের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা জরুরি।