
আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ভোলায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকেরা।
শনিবার (২ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বয়ে যাওয়া বিক্ষিপ্ত ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী, বাপ্তা ও ধনিয়া ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র দমকা হাওয়া বয়ে গেলে অনেক ঘরবাড়ি ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে ঝড়ের কারণে জেলার অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। সন্ধ্যার আগে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও কয়েকটি এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ভোলা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ জানান, ঝড়ে ভোলা সদর, ইলিশা, ধনিয়া ও বাপ্তা ইউনিয়নের ৭ থেকে ৮টি পয়েন্টে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার বিদ্যুতের তার নষ্ট হয়েছে। বেশিরভাগ এলাকায় মেরামত কাজ শেষ হয়েছে, বাকি অংশে সংস্কার চলছে। তবে রাতের মধ্যে বাপ্তা, ধনিয়া ও ইলিশা এলাকার কিছু পয়েন্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, দিনভর বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। কর্মজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। শহরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়টি হঠাৎ আঘাত হানলেও ব্যাপক নয়, মাঝারি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ের পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন সড়কে পড়ে থাকা গাছ অপসারণে কাজ শুরু করে। এতে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ঝড়ে কয়েকটি ইউনিয়নে ৩০ থেকে ৪০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।