
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ও কুতুকছড়ি ইউনিয়নে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজ শুরু হয়, যা কৃষি উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, “দেশের কৃষকের সার্বিক উন্নতি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন।”
এই কর্মসূচির আওতায় মানিকছড়ি ছড়া ব্রিজ থেকে বড়পাড়া নালা পর্যন্ত এবং কুতুকছড়ি বাজার থেকে মোনতলা ও মাউরুম হয়ে বগাছড়ি পর্যন্ত খাল পুনঃখনন করা হবে। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে এই জনহিতকর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবং জবরদখলের প্রতিযোগিতায় অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়া ছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়, যা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করেছে।”
খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়বে না, বরং এই এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং স্থানীয় কর্মক্ষম ব্যক্তিদের আত্ম-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
এ সময় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হোসেন চৌধুরী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহাম্মদ সফি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলে খাল-নালা পুনঃখনন কৃষি উৎপাদন, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭০-এর দশকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি দেশব্যাপী কৃষি বিপ্লবে সহায়ক হয়েছিল। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।