
ভোলায় ইকোলজিক্যাল ফার্মিং সংশ্লিষ্ট এগ্রো-ইকোট্যুরিজম উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষক বাজারের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) ভোলা সদর উপজেলার ব্যাংকের হাট কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর আয়োজনে এ কৃষক বাজার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা, উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষক বাজারের উদ্বোধন করেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবদুল মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ভেদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিন মাহমুদ, খামার ব্যবস্থাপক এ এইচ এম জাকির হোসেন, ৬২ নম্বর ব্যাংকের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম এবং ব্যাংকের হাট কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা ইসমাইল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির। আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন জিজেইউএস-এর উপপরিচালক অরুণ কুমার সিংহ। সভাটি সঞ্চালনা করেন জিজেইউএস-এর সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আলমগীর হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কৃষক বাজারের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও নিরাপদ ও তাজা কৃষিপণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ও ইকোলজিক্যাল ফার্মিং সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলায় ব্যাংকের হাট ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে আসা ক্রেতা সাফিয়া বেগম জানান, বাজারের তুলনায় কম দামে তরমুজ কিনতে পেরে তিনি বেশ খুশি। একই এলাকার রাহমা বেগমও এই আয়োজনে সন্তুষ্ট, কারণ তিনি কম দামে সবজি কিনতে পেরেছেন। আনোয়ার হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, এ ধরনের বাজার নিয়মিত হলে ক্রেতারা আরও উপকৃত হবেন।
শেরে বাংলা বাজার এলাকা থেকে আসা বিক্রেতা আওলাদ জানান, তিনি নিয়ে আসা রকমেলন (সাম্মাম) ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। তরমুজ বিক্রেতা মো. সুমন বলেন, তিনি যে পরিমাণ তরমুজ নিয়ে এসেছিলেন, সবই বিক্রি করতে পেরেছেন এবং গত কয়েক দিনের তুলনায় ভালো দাম পেয়েছেন।
আয়োজক সংস্থা জিজেইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন, কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবদুল মতিন বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমিয়ে ভোক্তারা যাতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বিষমুক্ত খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারেন, সেই লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সফলতা এলে ভবিষ্যতে সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ভেদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি একটি দারুণ পদক্ষেপ। এতে একদিকে যেমন কৃষক লাভবান হবেন, তেমনি অন্যদিকে ক্রেতারাও উপকৃত হবেন। তিনি তার ইউনিয়নে এ আয়োজনের সফলতা কামনা করেন।
কৃষক বাজারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের অংশগ্রহণে কুইজ, গল্প বলা, কবিতা আবৃত্তি ও লোকগান প্রতিযোগিতা। এছাড়াও দড়িলাফ, ব্যাঙ দৌড়সহ নানা গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মনোমুগ্ধকর লোকগানের পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।
উল্লেখ্য, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ইকোলজিক্যাল ফার্মিং সংবলিত এগ্রো-ইকোট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) এ কৃষক বাজারের আয়োজন করে।