
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। ইরান ইস্যুতে মিত্রদের সমর্থন না পাওয়ায় এই অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ দৈনিক *Daily Telegraph*-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Donald Trump বলেন, ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন “পুনর্বিবেচনার পর্যায়েরও বাইরে” চলে গেছে।
তিনি ন্যাটোকে “paper tiger” বা অকার্যকর জোট হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মিত্র দেশগুলো প্রত্যাশিত সমর্থন দেয়নি।
একই প্রসঙ্গে Reuters-কে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি “absolutely” ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন এবং এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ পূরণ করছে কিনা তা পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা—যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়িয়েছে। অনেক ন্যাটো সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা এই বিরোধকে তীব্র করেছে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জার্মানি ও অন্যান্য মিত্ররা ন্যাটোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং জোটের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান বাস্তবায়িত হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ১৯৪৯ সালে গঠিত ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরে ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।