
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) টানা সপ্তম দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় ভিসির পক্ষ নিয়ে বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ এবং হামলার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। হামলার ঘটনার পর শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
এদিকে টানা কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ক্লাস-পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরাও এই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বলে জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারা ভিসির পদত্যাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি করছেন।
বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও নীতিমালা নিয়ে মতবিরোধ নতুন নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন ও কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যারিয়ার ও প্রতিষ্ঠানের সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংলাপ ও দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি।