
ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীবাহী বাসের চাপ ও তীব্র ফেরি সংকটে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। দিনের পর দিন পারাপারের অপেক্ষায় আটকে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকে বোঝাই তরমুজ পচে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা পড়েছেন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। অধিকাংশ ট্রাকেই মৌসুমি ফল তরমুজ বোঝাই। চালকদের অভিযোগ, তিন থেকে চার দিন ধরে অপেক্ষা করেও অনেক ট্রাক ফেরিতে উঠতে পারছে না।
চরফ্যাশন উপজেলার চরকলমি এলাকা থেকে আসা ট্রাকচালক মো. ফিরোজ জানান, দুই হাজারের বেশি তরমুজ নিয়ে তিন দিন আগে ঘাটে পৌঁছেছেন। এখনো নদী পার হতে পারেননি। দীর্ঘ অপেক্ষায় তরমুজ নষ্ট হতে শুরু করেছে। “তরমুজ থেকে পানি বের হচ্ছে, সব পচে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ট্রাকচালক আবুল হোসেনসহ আরও কয়েকজন। তাঁদের ভাষ্য, ঘাটে আটকে থাকায় খাবার ও থাকার সংকটে পড়েছেন চালকেরা। অন্যদিকে পণ্য নষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। ভাড়া পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, ফেরিতে অগ্রাধিকার পেতে ঘাট ইজারাদারের লোকজনকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে হয়রানি এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটছে বলে তাঁদের দাবি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তরমুজ চাষি মো. আলাউদ্দিন বলেন, ধারদেনা করে তরমুজ চাষ করেছেন। ভালো দামের আশায় নিজেই চট্টগ্রামে বিক্রির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু দুই দিন ধরে ঘাটে আটকা পড়ে আছেন। “আর এক-দুই দিন থাকলে বিক্রির মতো তরমুজ থাকবে না,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. কাওছার হোসেন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীবাহী বাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করানো হচ্ছে। ফলে পণ্যবাহী যানবাহনের পারাপার কম হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই নৌপথে চলাচলকারী চারটি ফেরির মধ্যে একটি বিকল হয়ে মেরামতাধীন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নতুন একটি ফেরি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সংকট কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।