
ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি। কিন্তু উৎসবের আনন্দ ছুঁয়ে যায়নি ভোলার জেলে পল্লীগুলোতে। মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেরা এখন খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকার ঘোষিত খাদ্য সহায়তার চাল না পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, ভোলার সাতটি উপজেলার মধ্যে চারটিতে আংশিকভাবে খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে চরফ্যাশন উপজেলায় বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলায় খাদ্যগুদামে চালের সংকট থাকায় এখনো বিতরণ শুরু করা যায়নি।
জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকেই তাদের আয় বন্ধ। ফলে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছেন তারা। ঈদ সামনে থাকলেও নতুন পোশাক বা ভালো খাবারের চিন্তা দূরের বিষয়—দৈনন্দিন খাবার জোগাড় করাই হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ।
ভোলা সদর উপজেলার ভোলার খাল মাছঘাটের জেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন পর ঈদ, কিন্তু ঘরে খাবার নেই। ধারদেনা করে চলছি। চাল পেলে অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”
মাঝিরহাট মাছঘাটের জেলে ইয়াছিন মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় এনজিও ঋণের কিস্তি স্থগিতের দাবি জানালেও তা কার্যকর হয়নি। “কোনো আয় নেই, কিন্তু কিস্তির চাপ আছে। এখন পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।
তুলাতুলি মাছঘাটের জেলে রুবেল মাঝি বলেন, আগের বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই চাল বিতরণ করা হতো। “এবার ১৮ দিন পার হলেও কিছু পাইনি। এখন নদীতে না গেলে উপায় থাকবে না,” বলেন তিনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, চারটি উপজেলায় চাল বিতরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্য উপজেলাগুলোতেও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করে বিতরণ শুরু করা হবে। এনজিও ঋণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ভোলার মেঘনা–তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
ঈদের প্রাক্কালে খাদ্য সহায়তা না পৌঁছানোয় জেলে পল্লীগুলোতে বাড়ছে হতাশা। দ্রুত চাল বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।