
গণভোটের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এটি জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যেভাবে গণভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তাতে বিভ্রান্তির উপাদান রয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় মদন মোহন মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে, অথচ সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার একমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। এখানে ঢাকার একটি এলিট গোষ্ঠী জনগণের ওপর বিষয়টি চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়।
বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, শুরুতে বিএনপি এই গণভোটে সম্মত হয়নি। কিন্তু বিএনপি রাজি না হলে নির্বাচনই হবে না—এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বিএনপি জুলাই সনদে সই করতে বাধ্য হয়। সে কারণেই দলটি কিছুটা বাধ্য হয়েই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে সংবিধানকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কিছু দেশে সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোটের ব্যবস্থা থাকলেও, সেটিও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে বিদেশ থেকে এসে, রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত নয়—এমন একটি গোষ্ঠী জনগণের জন্য কোনো ত্যাগ ছাড়াই ঘটনাচক্রে ক্ষমতার আসনে বসে গণভোট চালু করেছে। এই গণভোটের আইনগত ভিত্তি না থাকলেও নৈতিক ভিত্তি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি জুলাই অভ্যুত্থানকে সমর্থন করে বলেই জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবে।
লালমোহন মদন মোহন মন্দির কমিটির সভাপতি নিরব কুমার দের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।