
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাখাইন সম্প্রদায়। বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংলাচিনকে মারধরের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর বিহারে গিয়ে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।
বিহারের মহাথেরো উত্তম ভিক্ষু জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিহারের সীমানার মধ্যে একটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন বিহার কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্থানীয় নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলম বিহারের জমির মালিকানা দাবি করেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংলাচিনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বুধবার মহিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মংলাচিন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় পাওয়া অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।
কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। বিহারটিতে অষ্টধাতু দিয়ে তৈরি গৌতম বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন একটি বিশাল মূর্তি রয়েছে, যার ওজন ৩৭ মণ। মূর্তিটি দেখতে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ও দর্শনার্থী সেখানে ভিড় করেন।
তবে বিহার পরিদর্শনে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিহারটি আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে এখন সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।