
ভোলার দৌলতখানে নিখোঁজের দুই দিন পর ফয়েজ (২৫) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী ও মৃগী রোগে আক্রান্ত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ির মাদ্রাসা-সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফয়েজ দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শফিজল হকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে চরখলিফা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদ্রাসার পাশের পুকুরে এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে দৌলতখান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের বড় ভাই আব্দুল আজিজ নিরব ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি তাঁর ছোট ভাই ফয়েজের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল আজিজ জানান, ফয়েজ মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পাশাপাশি মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সাঁতারও জানতেন না। প্রায়ই কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন এবং চার-পাঁচ দিন পর নিজেই বাড়িতে ফিরে আসতেন। গত দুই দিন ধরে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। তবে এবারও আগের মতো ফিরে আসবেন—এমন আশাতেই ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
স্বজনেরা জানান, এর আগেও একবার পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন ফয়েজ। সে সময় তাঁর মা তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ১০ থেকে ১৫ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফকরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফয়েজের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।