
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আজ রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) থেকে বাংলাদেশে নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা নির্ধারণ করা হয়েছে, পাশাপাশি ব্যাংক লেনদেন ও শেয়ারবাজারের সময়সীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ থেকে সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মঘণ্টা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস সময়সূচি এক ঘণ্টা কমানো হলো।
তফসিলি ব্যাংকগুলোতে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত, যা আগে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল। তবে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) গতকাল শনিবার এ নির্দেশনা জারি করে।
শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর ১টা ৫৫ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত পোস্ট-ক্লোজিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদালতের অফিস সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার কর্মঘণ্টা নির্ধারণে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “জ্বালানি সাশ্রয় ও সংকট মোকাবিলায় এই সাময়িক পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া এই কৃচ্ছসাধনমূলক উদ্যোগ সফল হবে না।”
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রয়োগ জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা। নতুন সময়সূচি কতদিন কার্যকর থাকবে, তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।