
নাইজেরিয়ায় সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হঠাৎ করা এই ঘোষণা পেন্টাগনের ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, কারণ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এখনো কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পাননি। ট্রাম্পের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অগ্রাধিকারের তালিকায় নতুন করে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
ওয়াশিংটনে রবিবার (৩ নভেম্বর) রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ শনিবার রাতে পোস্ট করা বার্তায় তিনি নাইজেরিয়া সরকারকে খ্রিস্টানদের হত্যার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ আনেন এবং “সম্ভাব্য পদক্ষেপের” নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করেন, “যে কোনো হামলা হবে দ্রুত, নির্মম এবং কার্যকর।”
প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গেই “জি স্যার” বলে সাড়া দিলেও, পেন্টাগনের একাধিক কর্মকর্তা জানান তারা ঘটনাটিকে “হুইপল্যাশ” বা আকস্মিক ধাক্কার মতো মনে করছেন। কারণ গত কয়েক মাসে প্রশাসন হঠাৎ করে পারমাণবিক পরীক্ষা, ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র এবং মাদক পাচারের মতো দীর্ঘদিন উপেক্ষিত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করতেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল ফোকাস হবে সীমান্ত নিরাপত্তা, চীনের সামরিক প্রভাব এবং ন্যাটো মিত্রদের রাশিয়ার মোকাবিলায় চাপ বাড়ানো।
একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা সবাই একই সময়ে এ খবর জানছি।” তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত নাইজেরিয়া অভিযান সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পেন্টাগনে পৌঁছায়নি।
ট্রাম্প রোববার সাংবাদিকদের বলেন, নাইজেরিয়ায় “স্থলবাহিনী বা বিমান হামলা—দুটোই হতে পারে।” তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মার্কিন বাহিনীর আফ্রিকায় পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও লজিস্টিক সক্ষমতা নেই। আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র স্থায়ী ঘাঁটি জিবুতিতে, যা নাইজেরিয়া থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে।
নাইজেরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম এক দশক আগে প্রায় ৩০০ খ্রিস্টান ছাত্রী অপহরণের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মনোযোগ অঞ্চলটি থেকে সরে গেছে। ফলে ট্রাম্পের হঠাৎ ঘোষণার পেছনের নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় তাঁর বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের পরামর্শ শোনেন। তবে পররাষ্ট্রনীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁরই। নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের অস্তিত্ব সংকট তাঁকে পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করেছে।”
এভাঞ্জেলিক নেতা গ্যারি বাউয়ার রয়টার্স-কে জানান, খ্রিস্টানদের ওপর হামলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন একটি গোষ্ঠী ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। ঠিক একদিন আগেই প্রশাসন নাইজেরিয়াকে “ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনকারী দেশ” বা Country of Particular Concern তালিকায় যুক্ত করেছিল।
একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, কিছু সামরিক কর্মকর্তা ধারণা করেছিলেন সেনেটর টেড ক্রুজের বক্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট পদক্ষেপ নিতে পারেন। ক্রুজ সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন, নাইজেরিয়ায় গত ১৫ বছরে লক্ষাধিক খ্রিস্টান হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা “খ্রিস্টান গণহত্যা” হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তবু পেন্টাগনের কোনো কর্মকর্তা এখনো নাইজেরিয়া নিয়ে কার্যকর অভিযান পরিকল্পনার নির্দেশ পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন।