
ভোলায় বিএনপি ও বিজেপি’র মধ্যে সংঘর্ষের পর কেন্দ্রীয় বিএনপি সদর উপজেলা বিএনপি’র সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে। শনিবার (১ নভেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।
শনিবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও বিজেপি’র (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪৯ জন আহত হন। সংঘর্ষের পরপরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় বিএনপি কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা আসে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে এই আসনটি বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়েছিল বিএনপি। তবে এবারের নির্বাচনে জেলা বিএনপি আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে চায়। এজন্য জেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় নেতারা। এ নিয়েই সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল, যা শনিবার প্রকাশ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় দল নিজ নিজ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে সাংবাদিক, পুলিশ ও উভয় দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন এবং কয়েকটি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি কেন্দ্র থেকে কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশনা দেয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ভোলা সদর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ বলেন, “সামান্য বিষয় নিয়ে নেতাকর্মীদের এতটা উত্তেজিত হওয়া ঠিক হয়নি। আমাদের আরও সহনশীল হওয়া দরকার ছিল। পরিবেশ শান্ত রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
সদর উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কেন্দ্রীয় বিএনপি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বিজেপি’র ভুল বোঝা উচিত নয় যে, এই সিদ্ধান্ত ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে সুবিধা দিতে নেওয়া হয়েছে।”
জেলা বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, “বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। তবে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”
সংঘর্ষের পর শহরে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।