
দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওকে) বৃহস্পতিবার টানা তৃতীয় বৈঠকেও মূল সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করছে রয়টার্স জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। নভেম্বরেই প্রথম হার কমানোর পদক্ষেপ আসতে পারে।
রয়টার্সের ১৪ থেকে ২০ অক্টোবরের জরিপ অনুযায়ী, ৩৫ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে ৩৩ জন মনে করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওকে) ২৩ অক্টোবর নীতিগত সুদহার ২.৫০% এ স্থির রাখবে। বাকি দুজন ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ২.২৫% করার পূর্বাভাস দিয়েছেন।
আগের বৈঠকে বিওকে জানিয়েছিল, অতিরিক্ত গরম হওয়া আবাসন বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তারা আপাতত অপেক্ষার কৌশল নিচ্ছে।
প্যানথিয়ন ম্যাক্রোইকনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেলভিন ল্যাম বলেন, “অক্টোবরে বিওকের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভাবনা কম, কারণ আগস্টের পর থেকে অর্থনৈতিক বা আবাসন খাতের মৌলিক চিত্র বদলায়নি। তার ওপর গৃহঋণের ঋণঝুঁকি এখনো কমছে না।” তিনি আরও বলেন, “বিওকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখবে আবাসন বাজারের ওপর—যতক্ষণ না দাম স্থিতিশীল হয়, ততক্ষণ তারা নতুন করে সুদহার কমাতে চাইবে না। নভেম্বর হতে পারে সম্ভাব্য সময়।”
গত এক বছরে বিওকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমিয়েছে। এর ফলে আবাসনমূল্য আবার বাড়তে শুরু করেছে, যা গৃহক্রেতাদের সামর্থ্যের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। সিউলে একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য-আয় অনুপাত (price-to-income ratio) এখন ২১.৩, যা লন্ডনের ১৯.৪-এরও বেশি—এতে বিশ্বে সর্বোচ্চ গৃহঋণ-জিডিপি অনুপাতধারী দেশগুলোর একটি হিসেবে কোরিয়ার উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল এবং মুদ্রাস্ফীতি বিওকের ২% লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকায়, অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ নভেম্বর মাসে ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে হার ২.২৫% করার পূর্বাভাস দিয়েছেন।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মুদ্রামূল্য হ্রাস রোধে সতর্ক থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানিপণ্যে শুল্ক ১৫%-এ নামাতে সম্মত হয়েছে, বিনিময়ে সিউল ৩৫০ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগে রাজি হয়েছে। কিন্তু গাড়ি আমদানির ওপর শুল্ক এখনো বহাল আছে, কারণ দুই দেশ এখনো বিনিয়োগ চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে একমত হতে পারেনি।
সোসিয়েতে জেনারেলের অর্থনীতিবিদ মিশেল ল্যাম বলেন, “বিনিয়োগ চুক্তি এখন কোরিয়ান ওনের মানে বড় প্রভাব ফেলছে। চুক্তির কাঠামো ও বাস্তবায়ন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে চুক্তির ঘোষণা আসার পর থেকে কোরিয়ান ওনের মান প্রায় ২% কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিওকে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে ক্ষতি ঠেকাতে।
আগামী বছরের সুদহার পূর্বাভাসে অর্থনীতিবিদদের মতভেদ রয়েছে। মধ্যম পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে হার ২.০০% করা হতে পারে, এরপর ২০২৬ পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগস্টের জরিপে যেখানে প্রথম প্রান্তিকেই হার কমানোর পূর্বাভাস ছিল, সেখানে এবার তা পিছিয়েছে।