
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর, এনআইডি অনুবিভাগের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ)-২ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই তারা নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের কর্মবিরতির সূচনা করেন।
এই কর্মসূচির ফলে সারাদেশে এনআইডি সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে, যা সাধারণ জনগণের জন্য বিরাট ভোগান্তি তৈরি করবে। এই কর্মবিরতি শুধু ঢাকার নির্বাচন ভবনেই নয়, দেশের সব নির্বাচন কার্যালয়ে পালন হবে।
কর্মবিরতি ডাকার মূল কারণ দুটি। প্রথমত, এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার দাবি করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আইডিইএ প্রকল্পের অধীনে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত সব কর্মীকে স্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, এনআইডি কর্মীদের এই কর্মবিরতি যতদিন তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হবে, ততদিন চলবে। ফলে এনআইডি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এটি জনগণের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে, কারণ জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের মতে, এনআইডি কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকাই নিরাপদ এবং উপযুক্ত। এনআইডি কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানো হয়, যা অন্য কোনো দপ্তরের অধীনে স্থানান্তরের ফলে ব্যাহত হতে পারে।
এনআইডি কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকার বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা হলেও, এটি বাস্তবায়নের পূর্বে কর্মীদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে সরকারকে জনরোষের সম্মুখীন হতে হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে এনআইডি সেবা পুনরায় চালু করার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।