
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পালাক্রমে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত দুই যুবকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওই শিক্ষার্থী ও তার স্বজনরা জানান, শিক্ষার্থীর বাবা প্রায় দুই বছর আগে মারা যান। জীবিকার উদ্দেশ্যে রাতে তার মা ও ভাই তাকে ঘরে রেখে সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে রেনু পোনা শিকারের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী নদীতে যান। রাত দেড়টার দিকে দুই যুবক সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টা চালায়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী ঘরের চাচার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয়দের জানান এবং থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় তিনজনের নামে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওই শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।”
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০’ ও ‘পোকসো আইন’ সহ একাধিক কঠোর বিধান রয়েছে। তবে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় নারী ও শিশুরা সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ের নজরদারি, পুলিশি টহল জোরদার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব।