
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশালদেহী ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় ‘কালো মানিক’। প্রায় ৪৫ মণ (১ হাজার ৮০০ কেজি) ওজনের এই ষাঁড়টির মালিক সোহাগ মৃধা দাম হেঁটেছেন ২২ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, গত বছর এই ষাঁড়টি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া হয়েছিল, যা গ্রহণের পর নেত্রী পুনরায় মালিক পরিবারকেই ফেরত দেন।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী ও কৃষক সোহাগ মৃধা তার প্রিয় এই ষাঁড়টিকে গড়ে তুলেছেন নিবিড় মমতায়। সোহাগ জানান, ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দল ঘুরে দাঁড়ালে নেত্রীকে তার প্রিয় পশুটি উপহার দেবেন। সেই প্রতিজ্ঞা থেকে গত বছরের ৫ জুন গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ষাঁড়টি নিয়ে যান তিনি। বেগম খালেদা জিয়া উপহারটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং পরে সোহাগের ছেলে জিসান মৃধার জিম্মায় এটি ফেরত দেন। ওই সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কলে সোহাগের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ঈদ উপহারও প্রদান করেন।
বিশালাকার ‘কালো মানিক’ প্রায় ৭ বছর আগে চৈতা বাজার থেকে কেনা একটি ফ্রিজিয়ান গাভির বাছুর হিসেবে জন্ম নেয়। বর্তমানে এর বৈশিষ্ট্যগুলো রীতিমতো বিস্ময়কর। ওজন প্রায় ৪৫ মণ (১ হাজার ৮০০ কেজি), দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট। পালনে ব্যয় দৈনিক খাবার খরচ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
সোহাগের স্ত্রী সুলতানা আক্তার পলি জানান, “কালো মানিক এখন আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। তাকে পালতে অনেক কষ্ট ও ব্যয় হলেও আমরা ভালোবেসে তা করি।”
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাতুর সোহাগ মৃধা এবার ‘কালো মানিক’কে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, “ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারলে প্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে মরহুমা নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবো।”
বিশালদেহী এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন সোহাগের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোহাগ দলের অত্যন্ত একনিষ্ঠ কর্মী। বরিশাল বিভাগে এত বড় এবং ওজনের ষাঁড় আর দ্বিতীয়টি আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমরা আশা করি তিনি কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন।”
তবে বর্তমান বাজারে এত বিশাল দামের ষাঁড় বিক্রি করা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত সোহাগ ও তার পরিবার। উপযুক্ত ক্রেতা পেলে তারা দ্রুতই ‘কালো মানিক’কে হস্তান্তর করতে চান।
বাংলাদেশে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিশালদেহী ও দামি পশুর চাহিদা বাড়তে থাকে। ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল ও স্থানীয় জাতের সংকরায়নে গড়ে ওঠা বড় ষাঁড়গুলো সামাজিক মর্যাদা ও আবেগের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে উপহার দেওয়া বা তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বস্তুগুলো অনেক সময় জনমনে বিশেষ আবেগ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পশু পালনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধি করলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হতে পারেন।