1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বরিশালে মাস্টার ক্রাফটস পার্সনদের নিয়ে মতবিনিময় ভোলার প্রথম সাংবাদিক আবু তাহেরকে সংবর্ধনা দিল মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ১০০ হাঁস দিয়ে শুরু, এখন মাসে ৩৫ হাজার টাকা মুনাফা পারুলের! মায়ের স্বপ্ন, বাবার আদর্শের পথে পার্থর নতুন অধ্যায় মনপুরায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ভোলার ৫০ লাখ অনুসারীর কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রিন্স আইউব আয় করেন লাখ টাকা ভোলায় জিজেইউএসের কার্যক্রম পরিদর্শনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ভোলার পাঙ্গাশিয়ায় প্রায় এক একর জমির ফলদ ও বনজ বৃক্ষ কেটে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা বর্ষা এলেই হাঁটুপানি, আট বছর ধরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

জ্বালানি সংকটে বন্ধের পথে ভোলা–বরিশাল স্পিডবোট চলাচল, চরম দুর্ভোগে যাত্রী ও শ্রমিকরা

ভোলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধের মুখে পড়েছে ভোলা–বরিশাল নৌপথের দ্রুততম যাতায়াত মাধ্যম স্পিডবোট সার্ভিস। পেট্রোল সংকটে অর্ধেকের বেশি স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন জরুরি রোগী ও তাদের স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট থেকে বরিশালের লাহারহাট ও বরিশাল ঘাট রুটে চলাচলকারী স্পিডবোটগুলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেট্রোল সংকটে ভুগছে। গত সাত দিনে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। ফলে নিয়মিত চলাচলকারী বহু স্পিডবোট এখন ঘাটে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

২০০৪ সালে চালু হওয়া ভোলা–বরিশাল স্পিডবোট সার্ভিসটি আড়াই ঘণ্টার লঞ্চযাত্রাকে কমিয়ে প্রায় ৪০ মিনিটে নিয়ে আসায় রোগী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক স্পিডবোট এ রুটে চলাচল করলেও বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে এর বড় অংশ বন্ধ রয়েছে। ভেদুরিয়া ঘাটে নিবন্ধিত ১০৫টি স্পিডবোটের মধ্যে অর্ধেকের বেশি চলাচল করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা এক রোগীর স্বজন মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগী নিয়ে ভেদুরিয়া ঘাটে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। লঞ্চে গেলে সময় বেশি লাগায় স্পিডবোটের জন্য অপেক্ষা ছাড়া উপায় ছিল না। প্রায় ৩০ মিনিট পর একটি বোট পাওয়া যায়।

একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান চাকরিজীবী মো. শহীদুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন। তারা বলেন, জরুরি কাজে সকালে বরিশাল যাওয়ার জন্য ঘাটে এলেও স্পিডবোট না থাকায় বিপাকে পড়েন। লঞ্চে গেলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

যাত্রী ফিরোজ হাওলাদার ও নূরউদ্দিন মিয়া জানান, আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট পরপর স্পিডবোট ছাড়লেও এখন ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকায়ও। স্পিডবোট চালক মো. মোকতার হোসেন বলেন, প্রতিদিন বোট চালিয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করতেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বোট বন্ধ থাকায় কোনো আয় নেই। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্পিডবোট মালিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এমন তেল সংকটে আগে পড়েননি। সাত দিন ধরে তার বোট ঘাটে বাঁধা। এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

ভেদুরিয়া ঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. শেখ ফরিদ জানান, প্রায় ২০–২৫ দিন ধরে পেট্রোল সংকট চলছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও প্রকট হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার যাত্রী এ রুটে যাতায়াত করলেও জ্বালানি না থাকায় অর্ধেক বোট বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সংকট সমাধান না হলে পুরো সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা জেলা প্রশাসক শামীম রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, স্পিডবোটে পেট্রোল সংকট নিয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদনও করা হয়নি।

স্থানীয় যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, জরুরি চিকিৎসা ও দ্রুত যোগাযোগের স্বার্থে ভোলা–বরিশাল নৌপথে স্পিডবোট চলাচল সচল রাখতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট