
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রুজু করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আবদুল মোতালেব হাওলাদারের নামে মোট ৩ কোটি ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৭৬৫ টাকা।
অন্যদিকে, তার বৈধ আয়ের পরিমাণ ছিল ৬২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিলে তার প্রকৃত বৈধ সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪০ টাকা।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার বৈধ আয়ের তুলনায় ২ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে, যার পক্ষে তিনি কোনো বৈধ বা দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেননি। দুদকের দাবি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এই সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
মামলায় দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বাদী হয়েছেন। প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের পর পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সাইদুর রহমান অপু মামলাটি রুজু করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই আলোচনায় আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বচ্ছ সম্পদ ঘোষণা ব্যবস্থা, নিয়মিত নিরীক্ষা ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব।