
ভোলায় ডিজেল সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন এক শিল্প উদ্যোক্তা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ভোলা বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিলসের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আলহাজ মো. জামাল উদ্দিন খান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২ এপ্রিল তাঁর প্রতিষ্ঠানের মজুদকৃত ডিজেল প্রায় শেষ হয়ে যায়। পরদিন অবশিষ্ট অল্প পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে ভোলা সদর ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কোনো ডিজেল মজুদ নেই। স্থানীয় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের কাছে প্রয়োজনীয় ডিজেল চাইলেও সরবরাহ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জামাল উদ্দিন খান বলেন, আগে স্থানীয় ডিলারের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল সরবরাহ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি জানান, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানের আটটি ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলার রয়েছে। এসব যানবাহন পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। উৎপাদিত পণ্য ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু জ্বালানির অভাবে পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারব্যবস্থা ও ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এবং তাঁদের পরিবারসহ প্রায় এক হাজার মানুষের জীবিকা এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদন বন্ধ হলে এসব পরিবার অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ভোলা জেলার ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান ওই শিল্প উদ্যোক্তা।