1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে গণপিটুনি, পরে অব্যাহতি নতুন ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজতে শুরু ফুটবল ক্যাম্প-২০২৬ কালীগঞ্জে পিআইও কার্যালয় ঘিরে নানা অভিযোগ প্রকল্পের কাজ, বরাদ্দ ও বিল প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি চরফ্যাশনে ওমরপুরে স্ত্রী’র পরকীয়ায় প্রবাসী স্বামীর মানবেতর জীবন বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবেচনায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রাজনীতির অন্যতম প্রধান উজ্জীবক। বরিশালে ওষুধ কারখানা বন্ধ ঘোষণা, দিনভর শ্রমিকদের বিক্ষোভ ভোলায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ভোলা-বরিশাল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি মাহিন্দ্রাকে সাইড দিতে গিয়ে বরিশালে বাস খাদে, অল্পের জন্য রক্ষা ৩৫ যাত্রী ভোলায় ডিবেট ক্লাবের আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা

ভোলায় তরমুজের বাজারে মন্দা, দাম না পেয়ে হতাশ চাষি–ব্যবসায়ী

মোঃ সামিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২০৬ বার পড়া হয়েছে

“মালের দাম বাড়তি, তেলের খরচ বাড়তি—মাল এনে বিক্রি করে কোনো লাভ পাই না।” হতাশার সুরে কথাগুলো বলছিলেন ভোলা খালপাড়ের তরমুজ ব্যবসায়ী সগির মিয়া।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিনভর জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। ভোলার সদর রোড, খালপাড়, কাঁচাবাজার ও নতুন বাজারসহ একাধিক পাইকারি ও খুচরা বাজারে তরমুজের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এতে করে দাম কমে গেছে, ফলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা উভয়েই বিপাকে পড়েছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের শুরুতে যে তরমুজ ভালো দামে বিক্রি হয়েছিল, এখন সেই তরমুজই প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছে না। ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় অনেক বিক্রেতাকে দিনের শেষে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিক্রি করতে না পেরে পণ্য ফেলে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় পাইকারি দাম কমে গেছে। ফলে খরচ তুলেই লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চরফ্যশনের নুরাবাদ ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের তরমুজ চাষি মো. জাকির হোসেন বলেন, “গত বছরগুলোতে তরমুজ চাষে লাভ করতে পেরেছি। কিন্তু এবার লাভ তো হবেই না, বরং লোকসানে আছি। ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, সেটাও শোধ করতে পারব কি না জানি না।”
রসুলপুর ইউনিয়নের চাষি মোহাম্মদ আলি জানান, ছয় কানি জমিতে তরমুজ চাষ করে এখন পর্যন্ত অর্ধেক টাকাও তুলতে পারেননি। এছাড়াও একাধিক চাষি বলেন, ভালো ফলন হলেও বাজারে ভালো দাম না পাওয়ায় তারা হতাশ। অনেকেই উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
ভোলা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. রাসেল বলেন, “ঈদের আগে যে তরমুজ ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন ৫০ টাকাও কেউ দিতে চায় না।” একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী মো. আলমগীর বলেন, “যে দামে কিনছি, সেই দামে বিক্রি করতে পারছি না। ক্রেতারা মনে করেন, সব মাগনা।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. শামিম আহমেদ বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি জানান, জেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রায় ১৩ হাজার হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে চাষিদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট