
তাইওয়ান বৃহস্পতিবার তার প্রথম দেশীয়ভাবে তৈরি সাবমেরিন ‘নারওয়াল’-এর প্রথম আন্ডারওয়াটার সি ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। এটি চীনা নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পের একটি বড় মাইলফলক। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সহায়তায় চলা এই প্রকল্পে বিলম্ব ঘটেছে।
তাইওয়ানের সিএসবিসি কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশের প্রথম দেশীয় সাবমেরিন ‘নারওয়াল’ কাওশিউং বন্দরের দক্ষিণে অগভীর পানিতে সাবমার্জড নেভিগেশন টেস্ট সম্পন্ন করেছে। সংস্থাটি বলেছে, “সাবমেরিন একটি কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র”।
চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং প্রায় প্রতিদিন সামরিক মহড়া চালায়। তাইওয়ান এই প্রকল্পকে তার সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণের মূল অংশ করেছে। প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশের প্রযুক্তি ও দক্ষতা ব্যবহার করা হয়েছে—যা কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন তাইওয়ানের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
সিএসবিসি আটটি সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। প্রথমটির দাম ৪৯.৩৬ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার (প্রায় ১.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এতে লকহিড মার্টিনের কমব্যাট সিস্টেম ও মার্ক ৪৮ হেভিওয়েট টর্পেডো থাকবে।
প্রকল্পটি ২০২৪ সালে নৌবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের কথা ছিল, কিন্তু “আন্তর্জাতিক পরিবেশের সীমাবদ্ধতা ও চীনা কমিউনিস্টদের চাপের” কারণে বিলম্ব হয়েছে বলে সিএসবিসি জানিয়েছে। তাইওয়ান ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত দুটি দেশীয় সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় এবং পরবর্তী মডেলগুলোতে মিসাইল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চীনের সশস্ত্র বাহিনী তাইওয়ানের তুলনায় অনেক বড়—তিনটি অপারেশনাল এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন ও স্টিলথ ফাইটার জেট উন্নয়ন করছে। তাইওয়ান অ্যাসিমেট্রিক যুদ্ধের কৌশল নিয়েছে—সাবমেরিন, ড্রোন ও ট্রাক-মাউন্টেড মিসাইলের মতো মোবাইল ও চটপটে অস্ত্র দিয়ে বড় প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের ঘোষণা দেন।