1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
খেলার মাঠের মাইক্রোফোন থেকে সাংস্কৃতিক মঞ্চে, বাঁধনের ২৫ বছরের পথচলা পিরোজপুরে জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা তিন লক্ষাধিক টাকার গাছ কর্তন জিপিএ-৫ না পেলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্বপ্ন দেখার পথ খোলা ভোলায় কান্দি পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র, একই জমিতে ধান-সবজি চাষে লাভবান কৃষক আমতলীতে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, জনপ্রতি ৩০ টাকা আদায়ের দাবি এইচএসসির ফলাফলে বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে পিছিয়ে ঝালকাঠি, পাসের হার ৩৭.০৯ শতাংশ ভোলায় এইচএসসিতে পাসের হার ৩৯.৫৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ বেড়ে ৭৯ ঝালকাঠিতে ৪৭ হাজার টাকার জাল নোটসহ নারী আটক, স্বামী পলাতক ভোলায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতায় জিজেইউএসের সভা যুবদল নেতা আলামিন হত্যা: ১১ বছর পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ভোলার গজারিয়া পশুর হাট: আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য, খাজনামুক্ত বেচাকেনা

ঢাকা বুলেটিন ডিজিটাল ডেস্ক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ১৮১ বার পড়া হয়েছে

ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে ভোলার স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে দেড় শতাধিক পশুর হাট। এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও ঐতিহ্যবাহী হিসেবে পরিচিত ভোলা সদর উপজেলার গজারিয়া পশুর হাট, যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিয়া বাড়ির দরজার হাট’ নামে পরিচিত। প্রায় আড়াই শ’ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী হাটে সপ্তাহে তিনদিন পশুর হাট বসে এবং প্রতিটি হাটে কয়েক কোটি টাকার গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচা হয়।

গজারিয়া পশুর হাটের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এখানে ক্রেতা কিংবা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল, খাজনা বা চাঁদা নেওয়া হয় না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পশু কেনাবেচা করতে পারেন। খোলা পরিবেশ, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, নিরাপদ বেচাকেনা এবং অতিরিক্ত খরচ না থাকায় এই হাট ভোলাসহ আশপাশের জেলার মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ঈদকে সামনে রেখে ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত গজারিয়া বাজার সংলগ্ন বালিয়া মিঞা বাড়ির সামনের খোলা মাঠে বসে এ পশুর হাট। দালাল ও খাজনামুক্ত হওয়ায় জেলার চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, দৌলতখান, চরপাতা ও ভোলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা প্রজাতির কোরবানির দেশি গরু ও ছাগল এখানে বিক্রি হয়।

হাটে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা লোকমান হোসেন বলেন, “গজারিয়া বাজার ভোলার ঐতিহ্যবাহী কোরবানির পশুর হাট। মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর পূর্বপুরুষরা এই হাট খাজনা ফ্রি করে দিয়ে গেছেন তাই আমরা এই হাটে গরু নিয়ে আসি। কোনো দালাল নাই, বিক্রি করে পরিপূর্ণ অর্থটাই পাই।”

খামারি মাহফুজ জানান, “আমরা অন্য হাটে একটা গরু বিক্রি করলে লাখে ৫ হাজার টাকার মতো খাজনা দেয়া লাগে। এখানে সম্পূর্ণ খাজনা ফ্রি। তাই ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় কেনা-বেচা করে খুশি।”

হাটের ইতিহাস সম্পর্কে মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর চাচাতো ভাই জামাল মিয়া বলেন, “প্রায় আড়াই শ’ বছর আগে তাদের পূর্বপুরুষ আরব আলী মিঞা কোরবানির পশু কিনতে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাংলাবাজার খাষেরহাট নামক পশুর হাটে যান। খাজনা আদায়কারী তার কাছে খাজনার টাকা দাবি করায় বিষয়টি তার আত্মসম্মানে আঘাত করে। খাজনার বিড়ম্বনার শিকার হয়ে তাদের মিঞা বাড়ির সামনের বিশাল মাঠে খাজনামুক্ত পশুর হাট বসান। সেই থেকেই সম্পূর্ণ খাজনামুক্ত জেলার অন্যতম কোরবানির পশুর হাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।”

বাংলাদেশে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শত শত পশুর হাট বসে। তবে অধিকাংশ হাটে টোল, চাঁদা ও দালালি ব্যবস্থার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। গজারিয়ার মতো খাজনামুক্ত হাটগুলো এই প্রথা ভেঙে স্বচ্ছ ও ন্যায্য মূল্যে পশু কেনাবেচার একটি আদর্শ মডেল উপস্থাপন করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোর সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে পশুর হাটগুলোকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট