1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজের দুই দিন পর জেলে শাহাবুদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার গলাচিপায় ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প পীরগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নুপুরকে হত্যার অভিযোগে ভাই-ভাবি গ্রেপ্তার গলাচিপায় ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার পটুয়াখালীতে ৭ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক কুয়াকাটায় তিনতলা আধুনিক মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু বাউফলে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: সম্মান বাঁচাতে চুরির মামলা, পুলিশি তদন্তে আসল ঘটনা ফাঁস দুমকিতে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ জলঢাকায় আরসিসি রাস্তার কাজে চরম অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবকের ওপর হামলা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

হামের টিকার সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১০ বার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

ঢাকা বুলেটিন ডিজিটাল ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে গত বছর দীর্ঘদিন ধরে হামের রুটিন টিকার সংকট ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, ২০২৪ সাল থেকে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকার সংকট নিয়ে অন্তত ১০ বার সতর্ক করেছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ইউনিসেফ বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইউনিসেফের প্রি-ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের টিকা দেশে আনা হয়, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বছরে মোট টিকা সংগ্রহে সরকারের বাজেট আনুমানিক প্রায় ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বাইরে ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স (গ্যাভি) বিভিন্ন টিকা সরকারকে বিনামূল্যে সরবরাহ করে।

ইউনিসেফ জানায়, টিকার ঘাটতি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকে অন্তত ১০টি বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন রুটিন টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত থাকায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। ফলে দেশে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে চলতি বছরের মে মাসে দেশে আবার হামের রুটিন টিকা আসতে শুরু করেছে।

ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “কোনো মহামারি রাতারাতি ঘটে না। কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানের দাবি—ইউনিসেফ তৎকালীন সরকারকে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সতর্ক করেনি—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রানা বলেন, “এ মুহূর্তে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে। আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল।”

রানা আরও বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের জন্য বারবার চাপ দিয়েছি। আমি ও আমার সহকর্মীরা অন্তত ১০ বার বৈঠকে বলেছি যে—আমরা টিকার সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে, এটি স্পষ্ট ছিল।”

টিকা কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে রানা বলেন, “আমরা যা যা কিনি, তার জন্য জনসম্মুখে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান সবচেয়ে স্বচ্ছ পদ্ধতি। তবে টিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ, এটি একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত টিকা আছে। তাই আপনি সবচেয়ে সস্তা টিকার পেছনে ছুটবেন না।”

বাংলাদেশে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম নিয়ন্ত্রণে শিশুদের দুই মাত্রার টিকা (৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে) প্রয়োজন। টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকার নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট