
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলা দল নেত্রীর স্বামীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ ঘটনাটি অস্বীকার করে জায়গিটি নিজেদের সম্পত্তি দাবি করেছে, ফলে বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে মালামাল রেখে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালমা বেগম লিলির স্বামী মিলন বেপারী কার্যালয়টির তালা ভেঙে সেখানে রান্নার লাকড়িসহ বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ শুরু করেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান।
তবে অভিযুক্ত মিলন বেপারী তালা ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কার্যালয়টি খোলা ছিল এবং তিনি নিজের গাছ কেটে সেখানে রেখেছেন। তার দাবি, জায়গাটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি এবং আওয়ামী লীগ পূর্বে প্রভাব খাটিয়ে সেখানে কার্যালয় নির্মাণ করেছিল। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ কাগজপত্র থাকার কথাও জানান।
মহিলা দল নেত্রী সালমা বেগম লিলিও একই দাবি করে বলেন, জমিটি তাদের পারিবারিক মালিকানাধীন এবং অতীতে সেখানে টিনশেড ঘর ও ফলজ গাছ ছিল। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতারা জোরপূর্বক গাছ কেটে ওই স্থানে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সরকারি নিয়ম মেনে খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সেখানে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব তালুকদার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। বিএনপি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ওই কার্যালয়ে একাধিকবার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বর্তমানে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।