
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাটা সেন্টার সেবা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি সতর্ক করেছে, জ্বালানি ঘাটতি চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি ডিজিটাল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং ডাটা সেন্টারগুলো বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অংশ। এই সেবাগুলো সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাটা সেন্টার সেবাসমূহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই খাতগুলো আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে যদি এসব সেবা ব্যাহত হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতি, অনলাইন শিক্ষা, ই-কমার্স এবং সরকারি ডিজিটাল সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে অনেক এলাকায় টাওয়ার, নেটওয়ার্ক স্টেশন ও ডাটা সেন্টারগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে গ্রাহকরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে: (১) টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাটা সেন্টার খাতকে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা করা; (২) মোবাইল টাওয়ার, এক্সচেঞ্জ ও ডাটা সেন্টারে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা; (৩) বিকল্প জ্বালানি যেমন সৌরশক্তি ও ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবহারে প্রণোদনা প্রদান; (৪) জ্বালানি সরবরাহে বিশেষ কোটা বা অগ্রাধিকার বরাদ্দ নিশ্চিত করা; এবং (৫) নিয়মিত মনিটরিং ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবা বিঘ্ন রোধ করা।
সংগঠনটি মনে করে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাটা সেন্টার সেবাগুলো সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।