পটুয়াখালীতে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে বিভিন্ন যানবাহনের মালিকরা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না, ফলে ভোগান্তি বেড়েছে।
Body: সাম্প্রতিক সময়ে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। একাধিক পাম্পে ‘তেল শেষ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে এবং অনেক চালক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, তেলের অভাবে অনেক যানবাহন মালিক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে তাদের এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি বাড়ছে ভোগান্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু শহর নয়—পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা সড়কসহ আশপাশের এলাকাতেও একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে।
এদিকে এই সংকটকে পুঁজি করে কিছু খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বোতলজাত তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মজুত থাকা সত্ত্বেও দোকান বন্ধ রাখার অভিযোগও রয়েছে, যা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় একটি তেলের দোকান বন্ধ পাওয়া যায়, যদিও দোকান মালিকের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল মজুত থাকার তথ্য জানা গেছে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে পরিবহন খাত ও মৎস্য খাতেও প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে অনেক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সমুদ্রগামী ট্রলারগুলোও কার্যক্রম চালাতে পারছে না।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, বাজারে এমন পরিস্থিতি চললেও প্রশাসনের তদারকি পর্যাপ্ত নয়। তারা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট বন্ধ এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।