
ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে ভোলার বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে জেলার জনপ্রিয় স্পটগুলো। বিশেষ করে তুলাতুলি ও ইলিশা এলাকায় মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
ঈদের দ্বিতীয় দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনার তীব্র স্রোত, নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ, হিমেল বাতাস এবং নদীকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিনোদন ব্যবস্থাকে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। স্পিডবোট ও ট্রলারে নদীতে ভ্রমণ, ঘোড়ার পিঠে চড়া এবং বিভিন্ন রাইড উপভোগে মেতে উঠেছেন দর্শনার্থীরা।
তুলাতুলি এলাকার একটি পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসা হাবিব জানান, তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন।
তিনি বলেন, “তুলাতুলিতে কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। সবগুলোতেই ঘুরেছি। জায়গাগুলো সুন্দর এবং পরিবেশও ভালো। সবাই বেশ আনন্দ পেয়েছে।”
শিশু দর্শনার্থী তুলি, জান্নাত ও রিফাত জানায়, তারা ঘোড়ার পিঠে চড়া এবং বিভিন্ন খাবার উপভোগ করে বেশ খুশি।
অন্যদিকে ইলিশা এলাকার মেঘনা পাড়ে ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী ইসরাত জাহান ও নুরতাজ বলেন, ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে তারা স্পিডবোটে নদী ভ্রমণ করেছেন এবং নদীর পাড়ের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার উপভোগ করেছেন। “সব মিলিয়ে দিনটি খুব আনন্দে কেটেছে,” বলেন তারা।
তুলাতুলি এলাকায় ঘুরতে আসা নবদম্পতি নুর উদ্দিন ও জেসমিন জানান, বিয়ের পর সময় করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। ঈদের ছুটিতে তাই কাছাকাছি এই পর্যটন কেন্দ্রে এসেছেন।
তাদের ভাষ্য, “অনেকে কুয়াকাটা বা কক্সবাজারে যান। তবে এখানে এসে নদীর স্রোত আর প্রকৃতির যে অনুভূতি পাওয়া যায়, তা অনেকটা সমুদ্রসৈকতের মতোই লাগে।”
ঢাকা থেকে আসা সজিব ও হাসনাইন বলেন, “শহরের ব্যস্ত জীবনে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পাওয়া যায় না। এখানে এসে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সময় কাটাতে পেরেছি।”
এদিকে, ঈদে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, “পর্যটন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারে, সে জন্য আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।”