1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
কলাপাড়ায় নারী পুলিশ কনস্টেবলের রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর দাবি আত্মহত্যা ভোলায় শিক্ষা উন্নয়নে শিশুক্লাব গঠন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পায়ে হেঁটে ৩১ জেলা ঘুরে ভোলায় সাদিয়া, লক্ষ্য ৬৪ জেলা ও বিশ্বভ্রমণ ভোলায় দুই ইলিশ ১০ হাজারে বিক্রি, নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘাটে উৎসবের আমেজ পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভরাডুবি বাউফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে কুড়ালসহ শিক্ষার্থী আটক; সংঘর্ষের আশঙ্কায় ৬ জন থানায়, পরে অভিভাবকের জিম্মায় মুক্তি ভোলার ভেদুরিয়ায় এক বিধবার ঘর ভাংচুরের চেষ্টা চলাচ্ছে একটি ভূমিদস্যু চক্র ভারি বৃষ্টিতে নলছিটিতে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত-২০ ভোলায় নিরাপদ প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ কালবৈশাখীতে স্কুলের গেট ধসে আহত অয়ন; ঢাকায় সফল অস্ত্রোপচার, তদন্ত কমিটি গঠন

মনপুরার জন্য মন পুড়েনা, টনক নড়ে না কারও—স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বিদ্যুৎহীন মনপুরা

আব্দুর রহমান সোয়েব, মনপুরা,প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে।
দেশ এগিয়েছে, শহর আলোকিত হয়েছে, গ্রাম পৌঁছেছে উন্নয়নের ছোঁয়ায়।
কিন্তু ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা যেন এখনো পড়ে আছে অন্ধকারেই—আক্ষরিক অর্থেই।

বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার প্রায় ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলায় বসবাস করেন প্রায় এক লাখ মানুষ।
তাদের জীবনের প্রতিটি সন্ধ্যা নামে এক অদৃশ্য অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করে।

উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে কেবল ২নং হাজিরহাট ইউনিয়নে ওজোপাডিকোর জেনারেটরনির্ভর বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে।
তাও দিনে গড়ে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা।
বাকি চারটি ইউনিয়নে এখনো পৌঁছায়নি বিদ্যুতের কোনো আলো।
পুরো উপজেলাই যেন একটি বড় “সোলার নির্ভর দ্বীপে” পরিণত হয়েছে।

সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে থমকে যায় জীবন।
বাজারের কোলাহল কমে আসে, ঘরবাড়িতে জ্বলে ওঠে ক্ষীণ সোলার বাতি, কোথাও কোথাও এখনো জ্বলে কেরোসিনের কুপিঝড়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মেহেদী হাসান বলেন,
“দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যবসা চলে না। জেনারেটরের খরচ বেশি, তাই অনেক সময় বিকেলেই দোকান বন্ধ করতে হয়।”

শুধু ব্যবসা নয়, অন্ধকারে থেমে যায় শিক্ষার আলোও।
শিক্ষার্থী তামজিদ সামি জানায়,
“রাতে পড়তে বসলে সোলারের চার্জ শেষ হয়ে যায়। তখন আর কিছু করার থাকে না। অনলাইন ক্লাস বা কম্পিউটার ব্যবহার করাও কঠিন।”

স্বাস্থ্যসেবাও এখানে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ।
বিদ্যুতের অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি চালানো যায় না নিয়মিত।
ওষুধ সংরক্ষণেও তৈরি হয় জটিলতা।
একটি দ্বীপ অঞ্চলের জন্য যেখানে কোল্ড স্টোরেজ, বরফ কারখানা বা মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
সেখানে বিদ্যুতের অভাবে এসব কিছুই গড়ে ওঠেনি।

অন্যদিকে, সোলার প্যানেল এখন অনেক পরিবারের একমাত্র ভরসা।
কিন্তু এই সীমিত প্রযুক্তি দিয়ে আলো ও মোবাইল চার্জ ছাড়া আর তেমন কিছুই সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ—
বছরের পর বছর ধরে মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডের আওতায় আনার আশ্বাস শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
প্রকল্পের কথা আছে, পরিকল্পনার কথা আছে—
কিন্তু নেই বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) নূর আহমদ জানান,
মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে এবং ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের একটি টিম এলাকা পরিদর্শন করেছে।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—
পরিকল্পনা আর বাস্তবতার এই দূরত্ব কতদিন?

দেশ যখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি করছে,
তখন একটি সম্পূর্ণ উপজেলাকে অন্ধকারে রেখে সেই উন্নয়নের গল্প কতটা পূর্ণতা পায়?

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে যাওয়া এক জনপদের মানুষের কণ্ঠে আজ একটাই প্রশ্ন—

মনপুরার জন্য কি সত্যিই কারও মন পোড়ে না?
কবে জ্বলবে জাতীয় গ্রিডের আলো এই দ্বীপে?

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট