
পটুয়াখালীর গলাচিপাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত রাবনাবাদ সেতুর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াছিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাবনাবাদ নদীর ওপর এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। সেতুটি চালু হলে এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে উপজেলা, জেলা ও রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, সেতুটি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালানো হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এই সেতু দিয়েই মন্ত্রীকে এলাকায় নিয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। এতে ১৯টি স্প্যান ও ২০টি পিয়ার থাকবে। নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ১০০ মিটার দীর্ঘ স্টিল বো-স্ট্রিং ট্রাস স্প্যান নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশে প্রায় ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ করা হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটির বেশি টাকা। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সেতুটি চালু হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালীসহ আশপাশের প্রায় ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। ফেরি ও নৌযানের ওপর নির্ভরতা কমে সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহন এবং দুর্যোগকালে ঝুঁকিপূর্ণ নদী পারাপারের সমস্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।