
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগে লালু শাহ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত সপ্তাহে এ ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত পলাতক ছিলেন।
পটুয়াখালীর বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত লালু শাহ আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অতি দ্রুত তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের এলাকায় গত সোমবার (২ মার্চ) পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহ ধরে ওই শিশুকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত লালু শাহ প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন সময় চকলেট ও ১০ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান।
শেষ ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবার বিষয়টি টের পায়। স্থানীয়রা প্রথমে অভিযুক্তকে আটকালেও পরে তিনি পালিয়ে যান। গত সোমবার ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের নারী ও শিশু ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা ও নানি জানান, অভিযুক্ত লালু শাহ তাদের আত্মীয় (চাচা) হলেও ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিভিন্ন মহলে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, লালু শাহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিবারের ধারণা।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার আল কাইয়ুম বলেন, “শিশুদের ক্ষেত্রে সবকিছু বলা সম্ভব না। তবে কিছু শারীরিক জটিলতা পাওয়ায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছিল।”
এ ঘটনায় বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।