
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম হামলা চালিয়েছে। শনিবারের এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল দাবি করেছে যে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তারা ইরানের ওপর আগাম হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz এক বিবৃতিতে বলেন, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি দূর করতে ইসরায়েল প্রি-এম্পটিভ হামলা চালিয়েছে।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে শনিবার রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগে জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী বিমান হামলার সংঘাত হয়েছিল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যোগ দেয়—যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রত্যক্ষ সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর জবাবে তেহরান কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। Al Udeid Air Base মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এদিকে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে নতুন করে আলোচনা শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়ানো। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে আসছিল, যে কোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার বিষয়টি থাকতে হবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে।
ইরান বলেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি তেহরান জানিয়েছে, যে কোনো হামলার বিরুদ্ধে তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম হতে পারে। যদিও ইরান বারবার দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না।
সাম্প্রতিক এই হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।