
আর্জেন্টিনার সিনেট প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে সমর্থিত শ্রম সংস্কার বিল চূড়ান্তভাবে পাস করেছে। ৪২–২৮ ভোটে গৃহীত এই বিল এখন আইন হওয়ার পথে, যা মিলে সরকারের জন্য বড় আইনগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা Reuters জানিয়েছে, শুক্রবার সিনেটে বিলটি ৪২ ভোটে পাস হয়; বিপক্ষে ছিল ২৮ ভোট এবং দুই সদস্য বিরত থাকেন। প্রেসিডেন্ট Javier Milei-এর প্রশাসন বলছে, এ সংস্কার বিনিয়োগ বাড়াবে এবং আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, এটি শ্রমিক সুরক্ষা দুর্বল করবে, বিশেষ করে ধর্মঘটের অধিকার সীমিত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি পাস হওয়া মিলে সরকারের বৃহত্তর মুক্তবাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার রাজনৈতিক সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর মিলে সরকার মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল করেছে এবং মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। জানুয়ারিতে মাসিক মূল্যস্ফীতি ২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে দ্বিগুণ অঙ্কে ছিল। এ পদক্ষেপে International Monetary Fund ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
বিলটির বিতর্কিত ধারাগুলোর একটি হলো নিয়োগকর্তা-অর্থায়িত অবসরভাতা তহবিল গঠন, যা বর্তমানে জাতীয় পেনশন ব্যবস্থায় বরাদ্দ থাকা অর্থ থেকে গঠিত হবে। বিরোধী আইনপ্রণেতারা বলছেন, এতে পেনশন তহবিলের ওপর প্রভাব পড়তে পারে এবং কর্মী ছাঁটাই সহজ হতে পারে।
সংস্কারে নিয়োগের নিয়ম শিথিল করা, ছুটির কাঠামো পরিবর্তন, দৈনিক কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত করার সুযোগ এবং বিদেশি মুদ্রায় বেতন পরিশোধের অনুমতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। নতুন আইনে জরুরি পরিষেবায় ধর্মঘট চলাকালে ন্যূনতম সেবা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যা নিয়ে ইউনিয়নগুলোর আপত্তি রয়েছে।
শ্রম সংস্কার বিলটি মিলে সরকারের একাধিক অগ্রাধিকারমূলক আইন প্রস্তাবের একটি। আইনপ্রণেতারা আন্দিয়ান হিমবাহ সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়েও এগোচ্ছেন। সরকারের দাবি, এতে খনি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে; তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা করছে।