
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ (বরিশাল) সাব্বির মো. খালিদ গত ১৯ জানুয়ারি এ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণাকালে নুরুল হক নুর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করেছেন। এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর বিধি ১৫(ক) এবং ১৬(গ) ও (ছ) লঙ্ঘনের শামিল।
এছাড়া ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টায় চরবোরহান এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী এ ঘটনায় নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা জড়িত ছিলেন, যা আচরণবিধিমালা ৬(ক)-এর পরিপন্থী।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না—তা জানতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টায় দশমিনায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে (সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশটি দশমিনা থানার ওসিকে অতিসত্বর নুরুল হক নুরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একেএম এনামুল হক (রতন) বলেন, নুরুল হক নুর বিভিন্ন সময় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর কর্মী-সমর্থকরা হামলা, মারধর ও অফিস ভাঙচুর করেছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি।
নুরুল হক নুরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। গণঅধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কালাম পঞ্চায়েত ও দশমিনা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. লিয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। নির্ধারিত সময়ে আদালতে যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
দশমিনা থানার ওসি মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, নোটিশ হাতে পেয়েছি এবং নুরুল হক নুরকে অবহিত করা হয়েছে।